Friday, August 11, 2017

আমার রবি ঠাকুর



                 


ছোটোবেলা থেকে এক দাড়িওয়ালা বুড়ো দাদু’কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে চিনতে শিখেছি। ভালো গান,কবিতা, গল্প যাই শুনি সবই নাকি ওঁনার রচনা।মনে মনে ভাবতাম একটা মানুষ কি করে পারে এতো লিখতে। যত বড় হতে লাগলাম সুকান্ত, জীবনানন্দ, সুনীল বাবু, জসীমউদ্দিন একে একে এসে বই এর পাতায়, মনের প্লাটফর্মে ভিড় করলেন। কিন্তু না মনের ট্রেনগাড়ির একটি কামরা শুধু  একজনের জন্যই বরাদ্দ রইল। বাকি তিনটি কামরায় বাকি সবার ভিড়। ওই কামরাটা শুধু তোমার জন্য রবিঠাকুর। তোমায় চাক্ষুষ না দেখলেও মনের ক্যানভাসে নিত্ত তোমার সাথে আমার কথা হয়। তুমি কি ওই দূরে বসে তা বুঝতে পারো রবিঠাকুর?! অবশ্য দূরত্বটা বড্ড বেশী। ওই পারলৌকিক ব্যাপার আর কি। কে যেন একজন আমায় বলেছিলেন-তোমার রচনা বাল্যে সখের খেলা, যৌবনে প্রেম-ভালবাসা আর জটিলতার ক্রীড়া আর বার্ধক্যে বাণপ্রস্থের আস্বাদন। সত্যিই তাই গো ঠাকুর। তোমার রচনা যতবার পড়ি তত তার স্বাদ বাড়ে, আরো নতুনতর আঙ্গিকের সন্ধান পাই। ওই যেন বৈষ্ণব পদাবলীর নবরস- যে যা চায় তাই খুঁজে পায়। যখন অমলের দইওলা পড়েছি তখন যেন নিজেকে অমল ভেবেছি। অলস দুপুরে জানালার দিকে চেয়ে ভেবেছি ওই বোধহয় দইওয়ালা আসলো। গল্পের গূঢ়তা তখন বুঝিনি। আর ওই যে কাবুলিওয়ালা- সেই জোব্বা পরা মানুষটাকে কলকাতার রাস্তায় আমার সন্ধানী চোখ অনেক খুঁজেছে। প্রথম পাঠে গোরাকে মনে হয়েছে এক কাঠ খোট্টা নিতান্তই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত একটি চরিত্র। কিন্তু তার অন্তরালে থাকা গোরার বেদনা-প্রেম অনেক পরে খুঁজে পেয়েছি। ঘরে বাইরের সন্দীপকে নিজের প্রাক্তন প্রেমিক বলে মনে হয়েছে। কিন্তু অমিত আর লাবণ্যের প্রেম কাহিনী ভাবতে শিখিয়েছে বিবাহে প্রেমের পরিণতি নয়। প্রেম হবে টলটলে জল মগ্ন এক হ্রদ, তাতে মনের কলসী রোজ ডুবিয়ে দেব আর নিত্য রঙ্গিন প্রেমে ভরে নেব তাকে।
“আজি এ প্রভাতে রবি’র কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর
কেমনে পশিল গুহার আধাঁরে
প্রভাত পাখির গান……”

আমার স্বামীর মুখে রবিঠাকুরের পঙ্ ক্তি নতুন করে মনে নাড়া দিল। শুরু হয়েছিল আমাদের পথ চলা- রবিঠাকুর তোমাকেই সাক্ষী করে।

“চুমিয়া যেয় তুমি আমার বনভূমি
ওগো দখিন-সাগরের সমীরণ
যে শুভক্ষণে মম আসিবে প্রিয়তম
ডাকিবে নাম ধরে অকারণ।“

বিবাহোত্তর জীবনেও প্রেম তোমার হাত ধরেই এসেছিল রবিঠাকুর। কিন্তু প্রেম ভালবাসা তো সব না, “আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু”- তোমার দুঃখ-যন্ত্রনাকেও যেন কোথায় নিজের বড় আপনার লাগে। জোঁড়াসাঁকোয় তোমার ঘরে বসে তাই আকুল ভাবে কেঁদেছি। তোমার বিশালতাকে আমি স্পর্শ করতে পারবোনা, সেই ধৃষ্টতাও রাখিনা। তোমায় আমি অনুভব করেছি আমার প্রতিটা অনু-পরমাণু দিয়ে। তুমি আছো, আমার মত করে তুমি আছো। কারোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ তোমাকে আমার থেকে আলাদা করতে পারবে না। কারণ তুমি যে আমার রবীন্দ্রনাথ। তোমার লেখায় তোমার ভালোবাসা-আশীর্বাদ পেয়েছি। অনুভব করেছি হৃদয়ের গভীরতম তলদেশ থেকে, সেখানে একটি রাজসিংহাসন আর তাতে বিরাজমান তুমি , রবীন্দ্রনাথ।

অনামি

আমিত্ব



কিছু কথা না বলাই থাক। বললেই তার গভীরতা হারিয়ে যায়। কিন্তু মনের মনি কোঠায় তাদের কোথায় ই বা সাজিয়ে রাখব। ভালবাসা, মায়া-মমতা, স্বার্থ- ষড়যন্ত্র আর দুঃখে ঘেরা এই সংসার বড়ই অসাড়। বুঝেছি আমি খুব পরিশ্রম সাধ্য সেই উপলব্ধি। ওই যাকে বলে ঠেকে শেখা। আসলে আমি তো রবিঠাকুর নই, যে প্রতি টা অশ্রুকণাকে করে তুলবো অমূল্য রতন। দুঃখ যখন আমায় আঘাত করে, বেদনায় মনটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠে, ছাই-এর তলায় চাপা পড়া আগুনের মতো কিছু হয়তো লাইন ভেসে ওঠে এই কবি কবি মনটায়। কিন্তু যেই তারে লিখতে যাই, দিতে চাই একটি সুঠাম কায়া, তখনি অবাধ জলের ধারা সমস্ত বারণ আগ্রাহ্য করে নেমে আসে খাতার পাতায়, ধুয়ে দেয় সব আবেগ সব লেখনী। ভাষার শ্রোতজালে আটকে পড়ে সব ছন্দ-কাব্য, স্যালমন মাছের মতো অবিশ্রান্ত ভাবে সাঁতরে চলে সেই চিন্তার ছোট ছোট লার্ভা, নিজেদের অস্পষ্ট কায়াকে দৃঢ় করার প্রচেষ্টায়। কিন্তু চোখের থেকে নেমে আসা অবিরাম জলের ধারা তাদের পায়ের তলার সব জমি ধুয়ে দেয়। ওই যে বললাম, আমি রবি ঠাকুর নই, বড়ই সাধারন এক নারী। হতে পারিনি আমি চিত্রাঙ্গদা। চেয়েছিলাম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে, কিন্তু....না পারলাম কই। মীরা ও হতে পারিনি। নেই আমার সেই অবিরল প্রেমের ধারা, নেই অপার মনের গভীরতা। আমি কিন্তু চারুলতা ও হতে চাইনি......ওই দূরবীন দিয়ে দেখতে চাইনি আমার সংসার। তাহলে আমি কে? কি হতে চেয়েছিলাম?  আমি শুধু আমি.... আমার কোন বিকল্প নেই। না আমি কারো মতো, না আমার মতো কেউ। এটাই বোধহয় আমিত্বের পরিচয়।

অনামি

Sunday, August 6, 2017

Dream

Dream is like a dew drop
Wavering at the pick of leaves.
Dream is like a commet
Crossing the evening sky.
Dream is like one , who says
Oh! Hai ....Hello!
When worries are passerby.

Dream, doesn't come only in night
It can pushes us to the cliff to fight and fight.
Dream can make you better,
Helping you to make things right.

Dream is like an evening song
Sung by the cuckoo bird
Dream can put you in sleep
When life throw you in hard.

Saturday, August 5, 2017

ভেবেছিলাম

ভেবেছিলাম শঙ্খচিল হয়ে ঊড়বো আকাশে
তোদের  উপর  পড়তে দেব না ছায়া
ঐ,,,,ঐ কালো মেঘের।

ভেবেছিলাম  তৃণ  হয়ে থাকবো তোদের মাঝে
ভরিয়ে দেব তোদের পৃথিবী সকালের
ঐ শুভ্র শিশির কণায়।

চাতক পাখী  হয়ে নিয়ে আসবো  জল
জুড়িয়ে দেব তোদের তৃষ্ণা ভরিয়ে দেব মন
কোকিলের কোলাহলে তোদের করবো আবাহন।

ভেবেছিলাম রাখবো তোদের বুকের কাছে
তিতির ছানার মতো, আসুক না ঝঞ্ঝা বাতাস-
দামাল হাওয়া যত।
ভেবেছিলাম প্রদীপ হয়ে জ্বলবো , ঘুচাবো সব অন্ধকার,
হয়ে রামধনু সেতু,  তোদের করবো জীবন-তরী  পার।

অনামি

কিছু কথা

আমিই পলাশ... আজো রঙিন একটু'ও হয়নি মলিন
আজো তোমার অপেক্ষায় গুণে যাই দিন।
জানতে চাও কোথায় আছি...এক দিন যে
আমায় ছেড়ে সুদূরে দিয়েছিলে পাড়ি ।

ছেড়ে আমি যায়নি তোমায়
শুধু নদীর স্রোত ছিল প্রতিকূল
সময়ের আলিঙ্গনে জমেছে ধূল।
ভুলে আমি যায়নি তোমায়
রঙিন  করেছি মন তোমার রঙে পলাশ।
তোমার নিশ্বাস আজো পাই ঠিক
আমার কানের পাশে
শিহরে ওঠে মন, শরীর-প্রাণ
তোমায় ভুলে যায়নি পলাশ।

সব ধূলো মুছে দেব--- যদি তুমি আজো আসো
দু-হাত বাড়িয়ে দেব--- জড়াবো আমার বাহুপাশে।

স ্স্কারের বেড়াজাল করেছে রাস্তা পিচ্ছিল
যত'ই তুমি বাড়াও হাত
পৌঁছাতে দেবেনা আমায় ওরা
রাস্তা বড়'ই  সঙ্কিল।

অনামি